শিশুর কৃমি লক্ষণ, করণীয় ও চিকিৎসা

worm

আমাদের দেশে কৃমির সংক্রমণ খুব খুব কমন একটি বিষয়। বাংলাদেশে শিশু ও বড়দের একটি বড় অংশ নিয়মিত কৃমিতে আক্রান্ত থাকে। কিন্তু কৃমির সংক্রমণ এর উপসর্গ খুব একটা প্রকাশ পায়না এবং হালকা উপসর্গ দেখা দিলেও সবাই এটা মানতে রাজী হয়না। অনেক সময় রোগীকে কৃমির ঔষধ দিলে রোগী খেতে চায়না, নিজে নিজে ভেবে নেয় আমি খুব পরিষ্কার; আমার বা আমার বাচ্চার কৃমি হয়নি। ছোট বাচ্চাদের বেশি সংক্রমণ করে সুতাকৃমি/পিন ওয়ার্ম।  গোলকৃমি বাংলাদেশে সবচেয়ে কমন। Whipworm (Trichuris) ও Hookworm (বক্র কৃমি) গ্রামীণ এলাকায় অনেক বেশি হয়। এছাড়াও বক্র কৃমি, হুইপ ওয়ার্ম আমাদের দেশে কমনলি পাওয়া যায়। চলুন জেনে নেই কি কি উপসর্গ দেখা দিতে পারে কৃমির সংক্রমণে।

উপসর্গ / লক্ষণ গুলোঃ

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কৃমির সংক্রমণের কোন লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়না। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যেসব উপসর্গ পরিলক্ষিত হয় সেগুলো হলোঃ

কৃমির কারণে কিছু জটিল সমস্যা সৃষ্টি হতে পারেঃ

তবে মনে রাখবেন কৃমির সংক্রামন বেশি হলে তবেই এই লক্ষণ গুলো পরিলক্ষিত হবে। কৃমির সংক্রমণ যদি কম থাকে তবে এসব লক্ষন নাও থাকতে পারে।

কিভাবে বাচ্চা কৃমিতে আক্রান্ত হয়?

দূষিত মাটি, পানি থেকে মানুষ কৃমিতে আক্রান্ত হয় বেশি। এছাড়া বাজার থেকে আনা শাক সবজি মাছ মাংস ঠিক ভাবে না ধুয়ে খেলে বা অর্ধ সিদ্ধ খাবার খেলে কৃমির সংক্রামন হতে পারে। সাধারণত মাটি বা পানি থেকে কৃমির ডিম বা লার্ভা বাচ্চা বা বড় মানুষের হাত বা পায়ে লেগে যায়। কিছু সময় এসব লার্ভা হাত থেকে মুখের মাধ্যমে অন্ত্র চলে যায়। কিছু ক্ষেত্রে এসব লার্ভা স্কিন ভেদ করে শরীরে প্রবেশ করে।

ChatGPT Image Sep 29, 2025, 01_58_22 PM

কৃমির সংক্রামণ রোধে কি ব্যবস্থা নিবেন?

প্রাথমিক চিকিৎসাঃ

  • বয়স / গ্রুপ ঔষধের নাম ডোজ সময় / নিয়ম
    ১–২ বছর সিরাপ এলবেন ১ চামচ একবার ৭–১০ দিন পর পুনরায়
    ২–১২ বছর সিরাপ এলবেন ২ চামচ একবার ৭–১০ দিন পর পুনরায়
    এডাল্ট ট্যাব এলবেন ৪০০মিগ্রা ১ ট্যাব ৭–১০ দিন পর পুনরায়
  • কিছু কৃমিনাশক যেমন মেলফিন/ডিলেনটিন (পাইরেনটাল পাময়েট গ্রুপ) কৃমিকে অবশ করে দেয়। তাই যদি বাচ্চার কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে, তবে আগে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে হবে। নাহলে অবশ হওয়া কৃমি মল দিয়ে বের না হয়ে অন্ত্রে থেকে গিয়ে পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা বলেন ঔষধ দেয়ার ১ মাস পর পুনরায় কৃমি হয়েছে। কেন এমন হতে পারে?

কিছু প্রচলিত ভুল ধারণাঃ

প্রচলিত বিশ্বাস আসল সত্য
❌ চিনি খেলে কৃমি হয় চিনি নয়, মাটি-খাদ্য-হাত থেকে কৃমির ডিম পেটে যায়
❌ শুধু গ্রামে কৃমি হয় শহরের বাচ্চারাও সমানভাবে ঝুঁকিতে
❌ গরমে কৃমির ওষুধ খাওয়া যায়না সারা বছরই খাওয়া যায়

❌ ৩ মাসের পূর্বে কৃমির ঔষধ পুনরায় খাওয়ানো যায়না

প্রয়োজন হলে ১-২ মাস পরও খাওয়ানো যায়

কৃমি বিষয়ে ৫ টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

কখন কৃমির ঔষধ পরিহার করবেন? 

ঘরোয়া রেমিডি

কিছু প্রাকৃতিক উপাদান যেমন নিমপাতা, আনারস, কাঁচা রসুন, ও লেবুর বিচি কৃমির বিরুদ্ধে কিছু অ্যান্টিপ্যারাসিটিক গুণধর্ম রাখে বলে কৃমির সমস্যায় ব্যবহৃত হয়। তবে এগুলোর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা বিষয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত। ঘরোয়া রেমিডি ঔষধের বিকল্প নয়, শুধু সাপোর্টিভ

 
নিমপাতা (Neem Leaves)
 

আনারস (Pineapple)

 

কাঁচা রসুন (Raw Garlic)

 
লেবুর বিচি (Lemon Seeds)

ঘরোয়া উপাদানগুলো শুধুমাত্র সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, চিকিৎসার বিকল্প নয়। 


⚠️ সতর্কতা (Disclaimer):
এই আর্টিকেলে উল্লেখিত ঔষধ শুধুমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য।  আর্টিকেলটি শিক্ষামূলক ও সচেতনতামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য ডোজ সমূহ সাধারণ নির্দেশিকা, যা বাচ্চার অবস্থা ভেদে পরিবর্তন হতে পারে। সঠিক মূল্যায়ন ও চিকিৎসার জন্য  চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

© Dr-Adnan Al Berunie

MBBS, MS (Pediatric Surgery)

SCHP (Paediatrics) Australia, CCD

Child Specialist & Pediatric Surgeon

চেম্বার ১:
আল-মারকাজুল ইসলামী হাসপাতাল
২১/১৭, বাবর রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
🕔 রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতি — বিকেল ৬:০০–৮:০০
📞 সিরিয়ালের জন্য: 01755515556

চেম্বার ২:
ইউনিএইড ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন
2-A/1, দারুস সালাম রোড, মিরপুর-১।
🕢 শনি, সোম ও বুধ — সন্ধ্যা ৭:৩০–৯:৩০
📞 সিরিয়ালের জন্য: 01333702755

অনলাইন কনসালটেশন: 01671652589 (Whatsapp)

4.1 14 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
2 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Juthi
Juthi
12 days ago

Sir amr meyer jor sordi ar onek kasi, or medicine cholse sob gular jonno but er ei moddhe otirikto krimi barse poty rate kanna kore ar privet part chulkay, sir ei osud chola kale ki ami kirmir osud dite parbo?

error: Content is protected !!
Share via
Copy link