শিশু বিকাশের মাইলফলক
মুখের দিকে তাকাবে।
শব্দের দিকে তাকাবে।
হাতের মধ্যে আংগুল দিলে সেটা ধরবে।
পেটের উপড় ভর দিয়ে মাথা উচু করতে পারবে।
বাচ্চার চোখের সামনে কিছু সড়ালে সে ফলো করবে।
দুই পা ভাজ করে সামনে ছুড়ে দিবে, পায়ের নিচে কোন জিনিস পেলে ধাক্কা দিবে।
পরিচিত মানুষের দিকে তাকিয়ে হাসবে।
মানুষের সাথে খেলতে পছন্দ করবে, খেলা বন্ধ করলে কাদবে। হাসির উত্তরে হাসবে।
মুখ দিয়ে বাবলিং শব্দ করবে।
কোন খেলনা দেখে হাত দিয়ে সেটা ধরতে চাইবে।
পরিচিত মুখ চিনতে পারবে।
মাথা শক্ত করে ধরে রাখতে পারবে।
কিছু বাচ্চা উপুড় হতে পারবে।
কোন কিছুতে সাপোর্ট দিয়ে বসানো যাবে।
পরিচিত মানুষ চিনতে পারবে, অপরিচিত মানুষ দেখে ভয় পাবে।
বিভিন্ন শব্দ করবে (আহ, উহ, ওহ) শব্দে ম, ব এর প্রাধ্যান্য থাকতে পারে।
নিজের নাম বুঝতে পারবে এবং রেসপন্ড করবে।
বিভিন্ন শব্দ করে তার খুশি, রাগ, কষ্ট প্রকাশ করবে।
আশাপাশের জিনিসের দিকে তাকাবে।
তার নাগালের বাইরের জিনিস পেতে চাইবে, হাতের জিনিস মুখে দিবে, এক হাত থেকে অন্য হাতে নিবে।
সোজা থেকে উপুড় এবং উপুড় থেকে সোজা হতে পারবে।
সাপোর্ট দিয়ে বসতে পারবে। কিছু বাচ্চা সাপোর্ট ছাড়াও বসতে পারবে। তবে এতে ৯ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
নিজের পায়ের উপড় ভর নিতে পারবে এবং শরীর হালকা উপড় নিচ দোলাতে পারবে। কোন কিছু ধরে দাড়াতে চাইবে।
কোলে উঠার জন্য হাত উচু করতে পারবে।
তার নিজস্ব পছন্দের মানুষ এবং খেলনা থাকবে।
খেলনা এক হাত থেকে অন্য হাতে নিতে পারবে।
প্রথম পরিপূর্ণ শব্দ বলতে পারবে। ছোট ছোট শব্দ ‘বাবা’ ‘মামা’ ইত্যাদি বলবে। ছোট ছোট নির্দেশ বুঝবে।
বুড়া আঙ্গুল এবং তর্জিনী দিয়ে কিছু ধরতে পারবে।
হাত দিয়ে ইশারা করে কিছু দেখাতে পারবে।
হামাগুড়ি দিয়ে পারবে, ধরে দাড়াতে পারবে।
আয়নায় নিজের ছবি দেখে রিয়্যাকশন দিবে।
- শোয়া থেকে নিজে উঠে বসাঃ ৮-১০ মাসের মধ্যে শোয়া থেকে উঠে বসতে পারা স্বাভাবিক।
মাথা নাড়িয়ে না করতে পারবে, টাটা দিতে পারবে।
কোন শব্দ বললে সেটা কপি করতে চাইবে।
কোন কিছুর নাম শিখিয়ে দিলে সেটা চিনে দেখাতে পারবে।
কোন কনটেইনার থেকে জিনিস বের করতে এবং রাখতে পারবে।
কোন জিনিস দিয়ে কি করে যেমন কাপে পানি খায়, চিরুনী দিয়ে চুল আচড়ায় এসব সঠিক ভাবে বুঝবে।
কোন সাধারণ নির্দেশ মানতে শিখবে।
কোন কিছু ধরে দাড়াতে পাড়বে। দাঁড়ানো থেকে বসতে শিখবে।
কোন কিছু না ধরে কয়েক সেকেন্ড দাড়াতে পারবে।
হাত ধরে হাটতে পারবে। কিছু বাচ্চা এই বয়সে হাটতে শুরু করে। বাচ্চারা সাধারণত ১৫ মাসের মধ্যে হাটতে শিখে যায়।
বুড়ো ও ইনডেক্স আঙুল দিয়ে কিছু ধরতে পারবে। হাতে পেন্সিল ধরতে পারবে।
সিড়ি দিয়ে উঠা নামা করতে শিখতে চাইবে।
গানের সাথে নাচতে শিখবে।
খেলনা নিয়ে অন্যজনকে দিতে পারবে।
বল ছোড়া, কিংবা পুতুলকে খাওয়ানো এসব খেলা খেলতে শিখে।
১০টা মত শব্দ বলতে শিখবে। পরিচিত মানুষ, বডি পার্ট চিনতে পারবে।
১৮ মাস থেকে ২ বছরের মধ্যে ৫০ বা তার অধিক শব্দ বলতে পারবে। দুই শব্দ জোড়া দিয়ে বাক্য বলতে শিখবে। এরপর মোটামোটি বোঝা যায় এমন কথা বলবে।
তার কাছে কোন কিছু মজার মনে হলে বা তার কোন কাজ অন্যদের কাছে ভাল লাগলে সে সেটা বার বার করতে থাকবে।
বসো, উঠো, এদিকে আসো, ওখানে যাও – এসব সাধারণ নির্দেশ পালন করবে।
একা স্বাধীন ভাবে হাটবে এবং দৌড়াবে।
কাপে পানি খেতে পারবে। নিজে নিজে চামচ দিয়ে খেতে চেষ্টা করবে।
দৌড়াতে পারবে।
এই বয়সের বাচ্চা সবাইকে অনুকরণ করবে।
আগের থেকে অনেক বেশি স্বাধীন এবং স্বকীয়তা দেখাবে।
বাচ্চাকে কোন কিছু মানা করা হলে সেটা করতে চাইবে।
সাধারণত ২ বছরের দিকে ৪-৫ টি শব্দ দিয়ে বাক্য বলতে পারবে। আমি, তুমি, সে ইত্যাদি দিয়ে বাক্য বলতে শিখবে। আস্তে আস্তে অপরিচিতরাও তার কথা বুঝতে পারবে। ৩ বছরের মধ্যে কথা বলার এই স্টেপটি অবশ্যই অর্জন করবে।
২ বছর সম্পন্ন হয়ে গেলে বাচ্চা শোনা কথা রিপিট করবে। কবিতা বা সূরা শিখতে চেষ্টা করবে। খুব পরিচিত কবিতা গুলো বলতে পারবে।
রঙ এবং শেপ শিখতে শুরু করবে।
পেন্সিল দিয়ে দাগাদাগি করতে পারবে।
আঙুলের উপড় ভর দিয়ে দাড়াতে পারবে।
হাত ধরে সিড়ি দিয়ে উঠা নামা করতে পারবে।
বিছানা, সোফা, চেয়ার থেকে উঠতে এবং নামতে পারবে।
এক পায়ে ভর দিয়ে দাড়াতে পারবে।
আঙুলে ভর দিয়ে হাটলে পারবে।
তিন চাকার সাইকেল চালাতে পারবে।
বৃত্ত আকতে এবং কাচি দিয়ে কাগজ কাটতে পারবে।
ছেলে মেয়ে বুঝতে পারবে। নিজের লিংগ জানবে।
রঙ ভালো ভাবে চিনবে।
৩টি সংখ্যা রিপিট করতে পারবে।
১ পায়ে ভর দিয়ে হাটতে পারবে।
ক্রস আকতে পারবে।
৪ পর্যন্ত গুণতে পারবে।
নিজে নিজের জামা-কাপড় খুলতে পারবে।
৪ সংখ্যা রিপিট করতে পারবে।
জোরে দৌড়াতে পারবে
১ পায়ে ভর দিয়ে ভাল ভাবে হাটতে পারবে।
চতুর্ভুজ ও ত্রিভুজ আকতে পারবে।
১৫ পর্যন্ত গুণতে পারবে।
নিজে নিজের জামা কাপড় পরতে পারবে।
নিজের বাসার ঠিকানা জানবে।
বাইসাইকেল চালাতে পারবে।
নিজের নাম লিখতে পারবে।
ডায়ামন্ড শেইপ আকতে পারবে।
৩০ পর্যন্ত গুণতে পারবে।
নূন্যতম দেখভাল করলে নিজের পারসোনাল হাইজিন মেইন্টেন করতে পারবে।
০-৭ বছর বয়সে ব্রেন সব থেকে বেশি ডেভেলপমেন্ট হয়। যদি বাচ্চার উপড় বিনিয়োগের জন্য একটা সময় বেছে নিতে চান তাহলে সেটা শৈশব।
শিশু বয়সে বাচ্চার জীবনধারা ও লালন পালন পুরো জীবন জুড়ে তার শাররীক ও মানসিক বিকাশকে প্রভাবিত করে।
ভালো ব্রেন ডেভেলপমেন্টের জন্য স্ট্রেস থেকে আপনার সন্তানকে সুরক্ষিত রাখা অত্যাবশ্যকীয়।
৬ মাস পূর্ণ বাচ্চা উল্টাতে পারে না।
৮ মাস পূর্ণ বাচ্চা বসতে পারে না।
১০ মাস পূর্ণ বাচ্চা হামাগুড়ি দিতে পারে না।
১২ মাস পূর্ণ বাচ্চা বাবলিং করে না। (মুখ দিয়ে অর্থহীন শব্দ)
১২ মাস পূর্ণ বাচ্চা হাত দিয়ে ইশারা করে না।
১২ মাস পূর্ণ বাচ্চা অঙ্গভঙ্গি করছে না।
১২ মাস পূর্ণ বাচ্চা নাম ধরে ডাকলে তাকায় না।
১৬ মাস পূর্ণ বাচ্চা কোন এক শব্দ বলছে না।
১৮ মাস পূর্ণ বাচ্চা হাটতে পারে না।
২৪ মাস পূর্ণ বাচ্চা ২ শব্দ জোড়া দিয়ে কথা বলছে না।
যে কোন মাইলফলক স্পর্শ করার পর সেটা ভুলে যাচ্ছে, আর করছে না বা পেছনের দিকে যাচ্ছে।
উপরোক্ত উপসর্গ গুলো দেখা দিলে আপনার যথেষ্ট চিন্তিত হওয়ার মত কারণ আছে এবং অবশ্যই এরকম ক্ষেত্রে বাচ্চাকে একজন ডাক্তার দেখাতে হবে। মনে রাখতে হবে এখানে উল্লেখিত উপসর্গ গুলো ৩৭ পূর্ণ সপ্তাহে হওয়া টার্ম বাচ্চাদের জন্য প্রযোজ্য। প্রিমেচেউর বাচ্চাদের বেলায় তার জন্ম সপ্তাহ কম হলে সেটা বিয়োগ করে বাচ্চার বয়স এডজাস্ট করে নিতে হবে। একই সাথে খেয়াল রাখতে হবে সব বাচ্চা সব একটিভিটি করে না। যেমন কোন বাচ্চা হামাগুড়ি দেয় নাই কিন্তু সঠিক সময়ে দাড়াতে পারছে এবং হাটছে।
© Dr-Adnan Al Berunie
MBBS, MS (Pediatric Surgery)
SCHP (Paediatrics) Australia
Child Specialist & Pediatric Surgeon
Medical College for Women & Hospital (MCWH)
Share via:

কন্টেন্টে দেয়া ছবিটা জুম করাও যায় না এবং লিখাগুলি বোঝাও যায় না।
দুই আংগুল দিয়ে স্ট্রেস করলেই জুম হচ্ছে এবং সব লেখা স্পষ্ট ক্লিয়ার পড়া যাচ্ছে।