বাচ্চাদের বো-লেগসঃ স্বাভাবিক নাকি রোগ?

bow legs 2
বো-লেগস কি?

বো-লেগস (Bowlegs) মানে পা ধনুকের মতো বাকা থাকা। ২ বছরের নিচের বাচ্চাদের পায়ে কিছুটা বোয়িং স্বাভাবিক। এটাকে ফিজিওলজিক্যাল বোয়িং বলা হয়। বাচ্চারা মায়ের গর্ভে পা ভাজ করে থাকে, তাই জন্মের পর কিছুটা বাকা পা দেখা স্বাভাবিক। তবে অতিরিক্ত বোয়িং হলে কোনো রোগের কারণে হয়েছে কিনা সেটা যাচাই করা দরকার।

স্বাভাবিক বোয়িং হওয়ার কারণ
  • গর্ভের অবস্থান: মায়ের গর্ভে পা ভাজ করা থাকায় জন্মের পর কিছুটা বাকা পা থাকতে পারে।

  • অতিরিক্ত ওজন: বেশি ওজনের বাচ্চার পা ধরন করতে পারে না, তাই বোয়িং দেখা দিতে পারে।

  • অল্প বয়সে দাঁড় করানো: বাচ্চা দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত হওয়ার আগে জোর করে দাঁড় করালে বোয়িং বাড়তে পারে।

  • বয়সের ধরণ: সাধারণত ১ বছর বয়সে বোয়িং সর্বোচ্চ থাকে এবং ২ বছরের নাগাদ স্বাভাবিকভাবে ঠিক হয়ে যায়।

কিভাবে প্রাথমিকভাবে বোয়িং পরীক্ষা করবেন
  1. বাচ্চাকে দাঁড় করান বা শোয়া অবস্থায় দুই পায়ের পাতা পাশাপাশি ধরুন।

  2. পায়ের পাতা সোজা ও সামনের দিকে রাখুন।

  3. দুই হাঁটুর মাঝে ফাঁক (Gap) পরিমাপ করুন:

    • ৬ সেন্টিমিটারের কম ফাঁক: স্বাভাবিক বোয়িং

    • ৬ সেন্টিমিটারের বেশি ফাঁক: সন্দেহজনক

  4. লক্ষ্য করুন:

    • বোয়িং একপাশের পায়ে থাকলে কখনও স্বাভাবিক নয়।

    • ২ বছরের পর বোয়িং থাকলেও স্বাভাবিক ধরা হয় না।

কখন ডাক্তার দেখাবেন
  • দুই হাঁটুর ফাঁক ৬ সেন্টিমিটারের বেশি

  • পা ধনুকের মতো অনেক বেশি বাকা

  • বোয়িং এক পায়ে বা অ-সিমেট্রিক

  • ২ বছরের বেশি বয়সে বোয়িং থাকলে

  • বাচ্চার উচ্চতা স্বাভাবিকের তুলনায় কম

সম্ভাব্য রোগের কারণে বোয়িং
রোগের নামসংক্ষিপ্ত বিবরণলক্ষণ
Blount’s Diseaseহাঁটুর গ্রোথ প্লেটে সমস্যাএকপায়ের বেশি বাঁক, বয়স অনুযায়ী বৃদ্ধি ধীর
Rickets (রিকেটস)ভিটামিন D বা ক্যালসিয়াম অভাবপায়ের বাঁক, হাড় দুর্বল, দাঁতের বৃদ্ধি বিলম্ব
Osteogenesis Imperfectaহাড় দুর্বল ও ভাঙনপ্রবণসহজে হাড় ভাঙা, দুর্বল পেশী
Bone Dysplasiaহাড়ের বিকৃতি বা অসামঞ্জস্যদুই পায়ের ফাঁক অ-সিমেট্রিক, বিকৃত পায়ের আকৃতি
Osteomyelitis (হাড়ে সংক্রমণ)হাড়ে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণস্থানীয় ব্যথা, ফোলা, লালচে ভাব, জ্বর

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা: অতিরিক্ত বোয়িং থাকলে এক্সরে এবং অন্যান্য পরীক্ষা (Vit-D3, S. Calcium, ALP, Inorganic Phosphate) করে বোঝা হয় স্বাভাবিক না রোগজনিত বোয়িং।

 
যত্ন ও প্রতিরোধ
  • প্রতিদিন ১৫–২০ মিনিট রোদে খেলা – ভিটামিন D জন্য

  • পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার – দুধ, ডিম, মাছ

  • বাচ্চাকে জোর করে দাঁড় করানো বা হাঁটানো থেকে বিরত থাকুন

  • ওজন যেন বয়স অনুযায়ী থাকে তা খেয়াল করুন

সংক্ষিপ্ত পরামর্শ
লক্ষণকরণীয়
একপায়ে বোয়িংদ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ
২ বছর বয়সেও বোয়িংএক্সরে ও পরামর্শ প্রয়োজন
দুই হাঁটুর ফাঁক >৬ সেন্টিমিটারবিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন দরকার

⚠️ সতর্কতা (Disclaimer):
  • আর্টিকেলটি শিক্ষামূলক ও সচেতনতামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
  • সঠিক মূল্যায়ন ও চিকিৎসার জন্য  চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

 
© Dr-Adnan Al Berunie
MBBS, MS (Pediatric Surgery)
SCHP (Paediatrics) Australia
Child Specialist & Pediatric Surgeon
Medical College for Women & Hospital (MCWH)
 
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
error: Content is protected !!
Share via
Copy link