শিশুর মুখের সাদা কাই: ওরাল থ্রাসে প্রাথমিক করণীয়
ওরাল থ্রাস হলো একটি সাধারণ ফাঙ্গাল সংক্রমণ যা শিশুর মুখে সাদা কাই হিসেবে দেখা দেয়। এটি শুধু জিহবায় নয়, মাড়ি, গালের ভেতরের অংশ, ঠোঁট এবং গলার ভিতরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ওরাল থ্রাসের কারণ
ওরাল থ্রাসের জন্য দায়ী ফাঙ্গাস হলো ক্যানডিডা এলবিকানস।
প্রায় ৫০% মানুষের মুখে এটি স্বাভাবিকভাবে থাকে, কিন্তু সাধারণত রোগ সৃষ্টি করে না।
মুখের অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া ক্যানডিডার অতিবৃদ্ধি রোধ করে।
কখন রোগ সৃষ্টি করে?
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে (সাধারণত শিশু ও বৃদ্ধ বয়সে)
দীর্ঘ সময় এন্টিবায়োটিক খেলে
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণহীন থাকলে
দীর্ঘমেয়াদি স্টেরয়েড বা কেমোথেরাপি চললে
উপসর্গ
ওরাল থ্রাসের সাধারণ উপসর্গগুলো হলো:
জিহবা, ঠোঁট ও গালে সাদা কাই
মুখের শুষ্কতা
মুখে দুর্গন্ধ
গলায় খাবার আটকে থাকার অনুভূতি
স্বাদ পরিবর্তন বা স্বাদ না পাওয়া
দাঁতের ব্যথা
- খাওয়ায় অরুচী
প্রাথমিক চিকিৎসা
ওরাল থ্রাসের জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
সাদা কাই পরিষ্কার করা:
একটি সুতির কাপড় কুসুম পানিতে ভিজিয়ে হালকা করে কাই তুলে নিন।
দিনে দুইবার এই পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
মাইকোরাল ওরাল জেল প্রয়োগ:
সাদা কাই থাকা অংশে ১ মিলি করে জেল লাগান ৪ বেলা, ৭–১০ দিন।
জোরে ঘষবেন না, যাতে জিহবা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
লাগানোর পর শিশু এটা খেয়ে ফেলবে। এতে কোন সমস্যা নেই।
খাবার সম্পর্কিত পরামর্শ:
অতিরিক্ত কাই বা ক্ষতের ক্ষেত্রে গরম খাবার পরিহার করুন।
তুলনামূলক ঠান্ডা বা সেমি-সলিড খাবার খাওয়ান।
তরল ও পাতলা খাবার বেশি দিন।
প্রতিরোধ:
নিয়মিত দই খাওয়ানো, মুখ ও অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া বজায় রাখে।
এতে ক্যানডিডার বৃদ্ধি রোধ হয় এবং সাদা কাই প্রতিরোধ হয়।
সতর্কতা (Disclaimer):
এই আর্টিকেলে উল্লেখিত ঔষধ শুধুমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য।
আর্টিকেলটি শিক্ষামূলক ও সচেতনতামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
এখানে উল্লেখ্য ডোজ সমূহ সাধারণ নির্দেশিকা, যা বাচ্চার অবস্থা ভেদে পরিবর্তন হতে পারে।
সঠিক মূল্যায়ন ও চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
MBBS, MS (Pediatric Surgery)
SCHP (Paediatrics) Australia
Child Specialist & Pediatric Surgeon
Medical College for Women & Hospital (MCWH)
Share via:
