ফোরমিল্ক, হাইন্ডমিল্কের গুরুত্ব
বাচ্চা দুধ খাওয়ার শুরুতে যে দুধ আসে সেটাকেই বলে ফোর মিল্ক। এই দুধে পানির পরিমাণ বেশি থাকে। দুধের কার্বোহাইড্রেট (ল্যাকটোজ) এই দুধে বেশি থাকে, কিন্তু ফ্যাট বা চর্বির পরিমাণ থাকে অত্যন্ত কম।
দুধ খাওয়ানোর শেষের দিকে বা পরের দিকে যে দুধ আসে সেটাকে বলে হাইন্ডমিল্ক। এই দুধে ফ্যাট বা চর্বি বেশি থাকে। এই দুধ ঘন হয় এবং পানি ও ল্যাকটোজ এর পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে। এই দুধ বেশিপুষ্টি সমৃদ্ধ।
ঠিক কতক্ষণ পর হাইন্ড মিল্ক আসা শুরু করে সেটা বলা যায়না। তবে প্রথম ৫-৭ মিনিট ফোরমিল্ক আসার পর হাইন্ডমিল্ক আসা শুরু হয় এবং সেটা ১৫-২০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
এই ফোরমিল্ক এবং হাইন্ডমিল্ক এর ব্যাপারটা একটা স্তন থেকে খাওয়ানোর বেলায় প্রযোজ্য। আপনি যদি ৫-১০ মিনিট খাওয়ানোর পর স্তন পরিবর্তন করেন তবে আপনার বাচ্চা পুষ্টিকর হাইন্ডমিল্ক থেকে বঞ্চিত হবে। আর এর ফলে আপনার বাচ্চা পানি ও ল্যাকটোজ সমৃদ্ধ দুধ পাবে যেটায় ফ্যাট খুব সামান্য। তাতে বাচ্চার বার বার ক্ষুধা লাগবে, বাচ্চার শাররীক গঠন ও বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হবে। একই সাথে বাচ্চার গ্যাসের এবং হাগুর সমস্যা হবে।
এজন্য একবার বাচ্চাকে স্তন পান করানোর সময় একটা স্তন থেকেই খাওয়াবেন। সেটা ২০ মিনিট হতে পারে। বারবার স্তন পরিবর্তন করবেন না। যদি বাচ্চা ২০-২৫ মিনিট এর বেশি খেতে চায় তাহলে স্তন পরিবর্তন করে অন্য স্তন থেকে খাওয়াবেন। এবং সেটার স্থায়ীত্ব যদি খুব বেশিক্ষন না হয় তাহলে পরের বার খাওয়ানোর সময় অসম্পূর্ণ খাওয়ানো স্তন থেকেই শুরু করবেন। মোটকথা পরের বার খাওয়ানোর সময় আগের বার যে স্তন থেকে ২০-২৫ মিনিট খাওয়ানো হয়েছে সেটা পরিহার করে অন্য স্তন থেকে খাওয়াবেন।
© Dr-Adnan Al Berunie
MBBS, MS (Pediatric Surgery)
SCHP (Paediatrics) Australia
Child Specialist & Pediatric Surgeon
Medical College for Women & Hospital (MCWH)
Share via:
