স্কাবিসঃ লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
স্কাবিস একটি তীব্র চর্মরোগ, যা Sarcoptes scabiei নামক এক ধরণের ক্ষুদ্র জীবাণু (mites) দ্বারা হয়। এটি অত্যন্ত সংক্রামক। সঠিকভাবে চিকিৎসা না করলে এটি পরিবার ছড়িয়ে পড়তে পারে। স্কাবিসের জন্য দায়ী Sarcoptes scabiei, যা মানুষের ত্বকে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ডিম পাড়ে এবং এর ফলে তীব্র চুলকানি হয়।
কিভাবে ছড়ায়:
শারীরিক সংস্পর্শ (বিশেষ করে রাতের বেলা)
যৌন সংস্পর্শ
সংক্রামিত পোশাক, বিছানার চাদর বা তোয়ালে ব্যবহার করলে
তীব্র চুলকানি (বিশেষ করে রাতে বেশি হয়)
ছোট ছোট লাল দানা, গুটিকা, বা ফুসকুড়ি
পাতলা লাইন বা সুড়ঙ্গ-জাতীয় দাগ (burrow)
সাধারণত হাতের আঙুলের ফাঁকে, কনুই, কোমর, নাভি, স্তন, যৌনাঙ্গ এলাকায়
শিশুদের ক্ষেত্রে তালু, পা, মাথা ও মুখেও দেখা যায়
ক) ক্লাসিক স্কাবিস: সাধারণত কয়েক ডজন মাইট থাকে। মূল লক্ষণ হচ্ছে তীব্র চুলকানি ও ফুসকুড়ি।
সবচেয়ে সাধারণ ধরন
হাতে, আঙুলের ফাঁকে, কব্জি, কোমর, নাভি, উরু ইত্যাদি জায়গায় হয়
রাতে বেশি চুলকায়
খ) ক্রাস্টেড স্কাবিস:
ত্বকে ঘন ও মোটা খোসা পড়ে, যা সাধারণত হাত, পা, কনুই, হাঁটু, তালু এবং পায়ের তলায় দেখা যায়।
চুলকানি সাধারণত কম বা অনুপস্থিত থাকে, যা রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব ঘটাতে পারে।
মাইটগুলি নখের নিচে জমা হতে পারে, ফলে নখ ভেঙে যাওয়া বা বিকৃত হতে পারে।
এই ধরনের স্ক্যাবিসে ত্বকে লক্ষ লক্ষ মাইট থাকতে পারে, যা সহজেই অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বেশি দেখা যায় HIV রোগী, বৃদ্ধ, স্টেরয়েড ব্যবহারকারী বা নিউরোলজিক রোগীদের মধ্যে
চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি হয়, এবং ইনফেকশন কন্ট্রোল গুরুত্বপূর্ণ।
আক্রান্ত রোগীকে আইসোলেট করা উচিত যতদিন না স্কাবিস নেগেটিভ হয়।
গ) নোডুলার স্কাবিস:
এক ধরণের এলার্জিক প্রতিক্রিয়া
চুলকানির সাথে পিন্ড বা নোড থাকে (বিশেষ করে যৌনাঙ্গ ও বগলে)
নোড বা পিন্ডগুলো মাইট থেকে নয়, বরং অতিরিক্ত ইমিউন প্রতিক্রিয়া থেকে হয়ে থাকে।
নোড দীর্ঘদিন থাকতে পারে, এমনকি মাইট নির্মূল হওয়ার পরেও।
সাধারন জনগণের জন্য স্কাবিস ডায়াগনসিস করা কঠিন। কারণ এটা মূলত ক্লিনিক্যাল বা চোখে দেখে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সনাক্ত করা হয়। তাই আর্টিকেল পড়ে স্কাবিস চিকিৎসা করা ঝুকিপূর্ণ। একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার দেখিয়ে নিশ্চিত হওয়া উচিত আপনার বাচ্চার সমস্যাটি স্কাবিস কিনা।
ক্লিনিক্যাল লক্ষণ দেখে
স্কিন স্ক্র্যাপিং করে মাইট, ডিম বা স্ক্যাবালা (scybala) শনাক্ত করা
ডার্মোস্কোপি অথবা ইনক-টেস্টে burrow দেখা
ব্যাকটেরিয়াল সুপারইনফেকশন (Impetigo)
একজিমা বা চুলকানিজনিত চর্মরোগ
নেফ্রাইটিস বা রিউম্যাটিক ফিভার (সেকেন্ডারি ইনফেকশনের কারণে)
ক্রাস্টেড স্কাবিস (Norwegian Scabies): ইমিউন-কমপ্রোমাইজড রোগীদের মধ্যে দেখা যায়, অনেক বেশি মাইট থাকে, অত্যন্ত সংক্রামক
বাহ্যিক ঔষধ:
Scabex 5% cream – গোটা শরীরে লাগিয়ে ১০-১৪ ঘণ্টা পরে ধুয়ে ফেলতে হয়, এক সপ্তাহ পরে আবার প্রয়োগ।
Lorix Plus Lotion – বাচ্চা রাতে ঘুমানোর পর পুরো শরীরে লাগাবেন। এডাল্ট ব্যাক্তি ঘুমোতে যাওয়ার সময় লাগাবেন। এক সপ্তাহ পরে আবার প্রয়োগ।
অন্যান্যঃ সালফার ক্রিম, ক্রোটামিটন ক্রিম/লোশন।
লোরিক্স প্লাস লোশন বা স্কাবেক্স যেদিন রাতে ব্যবহার করবেন ঐদিন সকালে বিছানার চাদর, পরনের জামা কাপড় একসাথে একটি পলিথিনের ব্যাগে জমা করবেন এবং সেগুলো বের করে গরম পানি দিয়ে সেদ্ধ করবেন।
বাংলাদেশে স্কাবিস এর জীবাণূ অনেক ক্ষেত্রে বহ্যিক মলম বা লোশন ব্যবহারে প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। এজন্য কিছু ক্ষেত্রে এই দুইটা ঔষধের বাইরে অন্য কিছু মলম (ক্রোটামিটন বা সালফার) ব্যবহার করতে হতে পারে; যার নিয়ম প্রাথমিক চিকিৎসায় উল্লেখ করা হলো না।
চুলকানির পরবর্তী প্রদাহ কমাতে স্টেরয়েড ক্রিম দেয়া যেতে পারে।
ক্রাস্টেড স্কাবিসে স্যালিসাইলিক এসিড ব্যবহার করতে হতে পারে।
নডুলার স্কাবিসের চিকিৎসা কিছুটা আলাদা ও দীর্ঘমেয়াদী। এরকম ক্ষেত্রে ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ রইলো।
মুখে খাওয়ার ঔষধঃ
প্রয়োজনে চিকিৎসক আইভারমেকটিন ব্যবহার করতে পারেন। ক্রাস্টেড স্কাবিসে প্রয়োজনে একাধিক ডোজ প্রয়োজন হতে পারে।
চুলকানির জন্য এন্টি-হিস্টামিন প্রয়োজন হতে পারে।
সেকেন্ডারি ইনফেকশনের জন্য Topical বা systemic এন্টিবায়েটিক প্রয়োজন হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনাঃ
পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে চিকিৎসা দিতে হবে (চুলকানি না থাকলেও)
ঘর পরিষ্কার, বিছানার চাদর, বালিশ, তোয়ালে ৫০°C তাপে ধুয়ে শুকাতে হবে।
ব্যবহৃত জিনিস ৩ দিন প্লাস্টিক ব্যাগে আটকে রাখা যেতে পারে (মাইট তাপ ও খাদ্য ছাড়া ২-৩ দিন বাঁচে না)
চিকিৎসার পরও চুলকানি ২-৪ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে (post-scabietic pruritus)
তবুও আবার যদি নতুন ফুসকুড়ি দেখা দেয়, তবে পুনঃমূল্যায়ন প্রয়োজন।
ক্রাস্টেড বা নডিউলার স্কাবিসে প্রাথমিক চিকিৎসা ট্রাই না করে বিশেষজ্ঞ দেখানো উচিত।
- ২ মাসের কম বয়সী শিশুদের জন্য পারমেথ্রিন বা লোরিক্স লোশন সতর্কতার সাথে ব্যবহারযোগ্য, চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়।
আক্রান্তদের সাথে সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা
ব্যক্তিগত জিনিস শেয়ার না করা
নিয়মিত পোশাক ও বিছানাপত্র পরিষ্কার রাখা
জনসমাগমে সচেতন থাকা (হোস্টেল, হোম, রিফিউজি ক্যাম্প ইত্যাদি)
সতর্কতা (Disclaimer):
এই আর্টিকেলে উল্লেখিত ঔষধ শুধুমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য। আর্টিকেলটি শিক্ষামূলক ও সচেতনতামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য ডোজ সমূহ সাধারণ নির্দেশিকা, যা বাচ্চার অবস্থা ভেদে পরিবর্তন হতে পারে। সঠিক মূল্যায়ন ও চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
MBBS, MS (Pediatric Surgery)
SCHP (Paediatrics) Australia, CCD
Child Specialist & Pediatric Surgeon
চেম্বার ১:
আল-মারকাজুল ইসলামী হাসপাতাল
২১/১৭, বাবর রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতি — বিকেল ৬:০০–৮:০০
সিরিয়ালের জন্য: 01755515556
চেম্বার ২:
ইউনিএইড ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন
2-A/1, দারুস সালাম রোড, মিরপুর-১। শনি, সোম ও বুধ — সন্ধ্যা ৭:৩০–৯:৩০
সিরিয়ালের জন্য: 01333702755
অনলাইন কনসালটেশন: 01671652589 (Whatsapp)
Share via:
