এডিনয়েড কী?
এডিনয়েড হলো নাকের পেছনে (nasopharynx) গলার উপরের অংশে থাকা এক ধরনের লিম্ফয়েড টিস্যু—যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি তুলনামূলকভাবে বড় থাকে এবং বিভিন্ন জীবাণু প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। এডিনয়েড বড় হওয়াকে বলা হয় Adenoid hypertrophy বা সহজ ভাষায় “এডিনয়েড বড় হওয়া”।
Adenoiditis কী?
Adenoid-এ ইনফেকশন/ইনফ্লামেশন। অবস্থান: নাকের পেছনে (nasopharynx)
প্রধান লক্ষণ
- নাক বন্ধ
- নাক দিয়ে পানি/পোস্ট নাসাল ড্রিপ
- নাক ডাকা
- মুখ দিয়ে শ্বাস
- লালা পড়া
- ঘুমে অস্থিরতা
- রাতে কাশি
- কানে সমস্যা
এডিনো-টনসিলাইটিস (Adenotonsillitis)
শিশুর Adenoid (নাকের পেছনের লিম্ফ টিস্যু) এবং Tonsil (গলার দুই পাশে থাকা টিস্যু) একসাথে ইনফেকশন/ইনফ্লামেশন বা দীর্ঘদিন ধরে বড় হয়ে থাকা এবং এর ফলে নাক-গলা-কান-ঘুমে শ্বাসপ্রশ্বাস সংক্রান্ত সমস্যা হওয়া।
প্রধান লক্ষণ (Adenoiditis-এর সাথে যোগ হবে)
- গলা ব্যথা
- গিলতে কষ্ট
- টনসিলে পুঁজ/সাদা দাগ
- জ্বর বেশি
- গলার গিঁট ফুলে যাওয়া
এডিনো-টনসিলাইটিস (Adenotonsillitis) কত ধরনের?
- Acute adenotonsillitis (হঠাৎ তীব্র সংক্রমণ): ভাইরাস/ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হঠাৎ জ্বর-গলা ব্যথা
- Recurrent adenotonsillitis (বারবার হয়): বছরে বহুবার ইনফেকশন হয়
- Chronic adenotonsillitis / adenotonsillar hypertrophy: দীর্ঘদিন ধরে adenoid/tonsil বড়; নাক বন্ধ, নাক ডাকা, মুখ দিয়ে শ্বাস, কানে সমস্যা
সবসময় “ইনফেকশন” নাও থাকতে পারে—অনেক সময় মূল সমস্যা হয় বড় হয়ে যাওয়া।
কারণ সমুহ (Causes)
১. ভাইরাস (সবচেয়ে বেশি)
- common cold viruses
- Influenza, adenovirus, rhinovirus ইত্যাদি
২. ব্যাকটেরিয়া
- Group A beta-hemolytic Streptococcus (GAS) — গুরুত্বপূর্ণ কারণ
- অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া
৩. অ্যালার্জি ও নাকের সমস্যা
- Allergic rhinitis
- দীর্ঘদিন নাক বন্ধ → adenoid/tonsil বড় হতে থাকে
৪. পরিবেশগত কারণ
- ধুলো, ধোঁয়া, দূষণ
- প্যাসিভ স্মোকিং
- স্কুল/ডে-কেয়ার → সংক্রমণ বেশি
লক্ষণগুলো কী কী? (Symptoms)
Adenotonsillitis-এর লক্ষণ ৩ ভাগে বোঝা সবচেয়ে সহজ:
১. গলা ও জ্বর সংক্রান্ত লক্ষণ (Acute infection features)
- জ্বর (কখনো খুব বেশি)
- গলা ব্যথা
- গিলতে কষ্ট (odynophagia)
- খাবার কম খাওয়া/বমি
- টনসিলে পুঁজ/সাদা দাগ
- গলার লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া
- মুখে দুর্গন্ধ
ভাইরাল হলে কাশি/সর্দি/চোখ লাল/হাঁচি বেশি থাকতে পারে।
স্ট্রেপ ইনফেকশনে সাধারণত গলা ব্যথা বেশি, কাশি কম।
২. নাক ও শ্বাসপ্রশ্বাস সংক্রান্ত লক্ষণ (Adenoid hypertrophy features)
- নাক সবসময় বন্ধ
- মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া
- নাক ডাকা
- নাক বন্ধের মতো কথা (hyponasal speech)
- নাক দিয়ে পানি পড়া/পোস্ট নাসাল ড্রিপ
- রাতে কাশি
৩. ঘুম ও কান সংক্রান্ত লক্ষণ (Sleep & ear features)
ঘুমের সমস্যা
- রাতে বেশি নাক ডাকা
- ঘুমে শ্বাস থেমে যাওয়া (Obstructive Sleep Apnea)
- ঘুম ভেঙে যাওয়া
- ঘুমের মধ্যে ছটফট করা/অস্থিরতা
- সকালে ঘুম ঘুম ভাব, মাথা ব্যথা
দিনের সমস্যা
- ক্লাসে মনোযোগ কম
- খিটখিটে/হাইপারঅ্যাকটিভিটি
কানের সমস্যা
- বারবার কানের ব্যথা/পুঁজ (Otitis media)
- কানে পানি জমা (OME)
- শুনতে কম পাওয়া
- কথা বলা দেরি হওয়া (speech delay)
Adenoid বড় হলে Eustachian tube ব্লক হয় → কান আক্রান্ত হয়।
এটাই adenotonsillar disease-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জটিলতা।
কোন লক্ষণ থাকলে জরুরি ডাক্তার দেখাতে হবে?
নিচের যেকোনোটি হলে দ্রুত হাসপাতালে/ENT/শিশু বিশেষজ্ঞ দেখান:
- শ্বাস নিতে কষ্ট
- মুখ দিয়ে লালা পড়া, গিলতে পারছে না
- মুখ খুলতে পারছে না (trismus)
- একপাশে গলা ফুলে যাওয়া/গলার বাঁকা ব্যথা (peritonsillar abscess সন্দেহ)
- ঘুমে শ্বাস বন্ধ (Sleep apnea)
- শিশুর পানি খাওয়া বন্ধ / ডিহাইড্রেশন
- খুব বেশি নিস্তেজতা
পরীক্ষা / কীভাবে নিশ্চিত করা হয়? (Diagnosis)
১. ইতিহাস ও পরীক্ষা (Most important)
ডাক্তার দেখে বুঝতে পারেন—
- টনসিল কতটা বড়
- পুঁজ আছে কিনা
- এডিনয়েড এর কারণে নাক বন্ধ কিনা
- কানের পর্দা ও তরল আছে কিনা
২. প্রয়োজনীয় টেস্ট
- X-ray nasopharynx lateral view
- Tympanometry / Hearing test (কানে পানি/শ্রবণ সমস্যা)
- Throat swab / Rapid strep test (স্ট্রেপটোকক্কাল ইনফেকশন সন্দেহে)
- CBC/CRP (সবসময় দরকার হয় না)
কোন বয়সে বেশি হয়?
সাধারণত ৩–৮ বছর বয়সে এডিনয়েড সমস্যা বেশি দেখা যায়।
৮–১০ বছর পর অনেক শিশুর এডিনয়েড ধীরে ধীরে ছোট হতে শুরু করে।
কিশোর বয়সে সাধারণত কমে যায়।
এডিনয়েড বড় হলে মুখের গঠন বদলে যায় কি?
দীর্ঘদিন মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার কারণে কিছু শিশুর মধ্যে দেখা যেতে পারে:
মুখ সবসময় খোলা থাকা
দাঁত সামনের দিকে বের হওয়া
মুখ লম্বা দেখানো
- উপড়ের চোয়াল উচু হয়ে যাওয়া
এ অবস্থাকে Adenoid facies বলা হয়।
চিকিৎসা (Treatment)
চিকিৎসা নির্ভর করে এটি Acute infection নাকি Chronic hypertrophy/OSA।
১। Acute adenotonsillitis চিকিৎসা
- জ্বর/ব্যথার ওষুধ: Paracetamol/Ibuprofen
- অ্যান্টিবায়োটিক: সব টনসিলাইটিসে অ্যান্টিবায়োটিক লাগে না। যদি ব্যাক্টেরিয়াল টনসিলাইটিস হয় সেক্ষেত্রে এন্টিবায়েটিক প্রয়োজন হয়।
পুঁজসহ উচ্চ জ্বর ও টক্সিক চেহারা। জ্বর ৩–৫ দিনেও না কমা। জটিলতা (ear infection, sinusitis) যোগ হওয়া
২। Chronic/recurrent adenotonsillitis চিকিৎসা
এখানে লক্ষ্য হলো—
- নাক দিয়ে শ্বাস স্বাভাবিক করা
- ঘুম ভালো করা
- কানের সমস্যা প্রতিরোধ
- বারবার ইনফেকশন কমানো
মেডিসিন দিয়ে চিকিৎসা (Conservative treatment)
🔹 নাকের স্প্রে (Intranasal steroid spray): এটি সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসার একটি যা এডিনয়েড ও নাকের ভেতরের প্রদাহ কমায়।
🔹 অ্যালার্জির ওষুধ (অ্যান্টিহিস্টামিন) অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা
🔹 স্যালাইন নাক ধোয়া (Nasal saline irrigation)
🔹 সংক্রমণ থাকলে অ্যান্টিবায়োটিকঃ সবসময় লাগে না—ডাক্তার প্রয়োজন হলে দেবেন।
অপারেশন: কখন প্রয়োজন হয়?
ঘুমে শ্বাস বন্ধ (Obstructive sleep apnea)
দীর্ঘদিন মুখ দিয়ে শ্বাস + নাক বন্ধ
বারবার সাইনাস ইনফেকশন
কানে পানি জমে শুনতে কমে যাওয়া (OME)
বারবার কানের ইনফেকশন
মেডিসিনে পর্যাপ্ত উন্নতি না হওয়া
অপারেশনের পর কি আবার এডিনয়েড হয়?
কিছু শিশুর ক্ষেত্রে এডিনয়েড আংশিকভাবে আবার বাড়তে পারে (regrowth), বিশেষ করে:
খুব কম বয়সে অপারেশন হলে
অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে
তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপারেশনের পর সমস্যা স্থায়ীভাবে অনেকটাই কমে যায়।
চিকিৎসা না করলে জটিলতা (Complications)
চিকিৎসা না করলে হতে পারে:
- টনসিলে এবসেস
- কানে ক্রনিক ইনফেকশন
- সাইনুসাইটিস
- গলার স্ট্রাপটোকক্কাল ইনফেকশন থেকে রিউমেটিক জ্বর এবং কিডনীর ইনফেকশন হতে পারে
- ওজন না বাড়া
- পড়াশোনায় খারাপ করা
- আচরণগত সমস্যা
- তালু উপড়ে উঠে যাওয়া
- চেহারায় পরিবর্তন (এডিনয়েড ফেইস)
বাড়িতে কীভাবে যত্ন নেবেন?
- নিয়মিত হাত ধোয়া
- ধোঁয়া/ধুলা এড়ানো
- অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ
- ঘরের বাতাস চলাচল
- পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টি
- বারবার সর্দি হলে “নাকের কেয়ার” নিয়মিত করা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা (সারাংশ)
এডিনয়েড হলো শিশুদের স্বাভাবিক প্রতিরোধী টিস্যু
বারবার ইনফেকশন/অ্যালার্জিতে এটি বড় হয়ে সমস্যা করতে পারে
মেডিসিনে অনেক শিশুর নিয়ন্ত্রণে থাকে
কিছু ক্ষেত্রে অপারেশন প্রয়োজন হয়
বয়স বাড়ার সাথে (৮–১০ বছর বা পরে) অনেক শিশুর সমস্যা কমে/সেরে যায়
কানের সমস্যা ও ঘুমে শ্বাস বন্ধ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা জরুরি
এডিনয়েড হাইপারট্রফি অনেক শিশুর ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তিমূলক (recurrent) হতে পারে। চিকিৎসায় উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে সময়ের সাথে পুনরায় বৃদ্ধি পেতে পারে—তাই ফলোআপ ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা লাগতে পারে। বয়স বাড়ার সাথে (সাধারণত ৮–১০ বছর পর) অনেক শিশুর এডিনয়েড স্বাভাবিকভাবে ছোট হয়ে যায় এবং উপসর্গ কমে/নির্মূল হয়। তাই সম্ভব হলে ৮-১০ বছর পর্যন্ত কনজারভেটিভ চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া যায়।
© Dr-Adnan Al Berunie
MBBS, MS (Pediatric Surgery)
SCHP (Paediatrics) – Australia
Child Specialist & Pediatric Surgeon
Uttara Womens Medical College Hospital
চেম্বারঃ
উত্তরা ওমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
বাসাঃ ৪, রোডঃ ৮-৯, সেক্টরঃ ১, উত্তরা
শনি ও সোম বার বিকেল ৫ঃ০০-৭ঃ০০
মংগল ও বুধবার সকাল ১০ঃ০০-১২ঃ০০
তথ্যের জন্যঃ ০৯৬৭৭১০২০৩০
আল-মারকাজুল ইসলামী হাসপাতাল
২১/১৭, বাবর রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
রবি, মংগল ও বৃহ, বিকেল ৫ঃ০০ – ৭ঃ০০
সিরিয়ালের জন্য কল করুনঃ 01755515556
ইউনিএইড ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন
2-A/1, দারুস সালাম রোড, মিরপুর-১।
শনি, সোম ও বুধবার, সন্ধা ৭ঃ৩০ – ৯ঃ৩০
সিরিয়ালের জন্য কল করুনঃ 01333702755
অনলাইন কনসালটেশনঃ m.me/cdc.dhaka.bd
Share via:
