গরুর দুধে এলার্জি; বিকল্প কি?
অনেক বাচ্চার গরুর দুধে এলার্জি, এজন্য দুধ খাওয়া নিষেধ। আবার অনেকের ক্ষেত্রে ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স থাকার কারণে দুধ হজম হয়না। কিছু বাচ্চার গরুর দুধে কোষ্ঠকাঠিন্যতা দেখা যায়। এসব কারণে অনেক বাচ্চাই দুধ খেতে পারে না। অনেক মায়েদের প্রশ্ন দুধ খেতে না পারলে দুধের পুষ্টি কিভাবে পাবে। অনেকেই আবার গরুর দুধের বিকল্প হিসাবে ফর্মুলা খাওয়াচ্ছেন। তবে ফর্মুলাও গরুর দুধ থেকেই তৈরী হয়। তাই গরুর দুধে এলার্জি থাকলে সাধারণ ফর্মুলা খাওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে সয়া বেইসড ফর্মুলা (বায়োমিল সয়) খেতে পারবে। ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্সের ক্ষেত্রে ল্যাক্টোজ ফ্রি ফর্মুলা (বায়োমিল সয়, নান এএল-১১০, বেবীলাক এফএল) খাওয়ানো যাবে।
যদি আপনার সন্তানের দুধে অ্যালার্জি থাকে, তাহলে দুধ থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুলো বিশেষ করে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, ফ্যাট বিকল্প উৎস দিয়ে পূরণ করতে হবে; যেগুলো সাধারণত প্রত্যাহিক খাবার থেকেই মেটানো সম্ভব। সুতরাং দুধ ছাড়া চলবে না এই ধারণা ভুল। নিচে দুধের প্রতিটি প্রধান পুষ্টির বিকল্প উৎস দেওয়া হলো:
১. ক্যালসিয়াম (দুধ থেকে না খেয়ে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়):
ছোট মাছ
ব্রকলি
তিল
বাদাম
সয়া
কাঠাল বিচি
পুই-পালং শাক, কচুশাক, লাল শাক
২. প্রোটিন (দুধের পরিবর্তে প্রোটিন পাওয়া যায়):
ডিম
মাছ ও মাংস
ডাল
চিকন ছোলা বা বুট
মটরশুটি
সয়া (যদি সয়াতে অ্যালার্জি না থাকে)
৩. ভিটামিন ডি
সূর্যের আলো সবচেয়ে ভালো উৎস। ভিটামিন-ডি সংক্রান্ত আলাদা আর্টিকেল রয়েছে । দৈনিক ১৫ মিনিট রোদে থাকলে দৈনিক চাহিদা পূরণ হয়।
খাবার থেকে: ডিমের কুসুম, মাছের তেল (কড লিভার অয়েল)
৪. ভিটামিন বি১২
শুধু প্রাণিজ উৎস থেকে পাওয়া যায়: ডিম, মাছ, মাংস
৫. ফ্যাট (চর্বি)
রান্নার যে কোন তেল
ঘি, বাটার (সামান্য পরিমাণে)
বাদাম ও বীজের তেল (সীমিত পরিমাণে)
বিঃদ্রঃ গরুর দুধে এলার্জি থাকলে ছাগলের দুধও সেইফ না। একই ভাবে চিজ, দই না খাওয়ানো উত্তম কারণ চিজ-দই এসবেও গরুর দুধের প্রটিন ভালো পরিমাণে উপস্থিত থাকে। তবে ঘি-বাটারে খুব সামান্য পরিমাণে থাকে বিধায় ঘি-বাটার সামান্য পরিমাণে খাওয়া যাবে।
© Dr-Adnan Al Berunie
MBBS, MS (Pediatric Surgery)
SCHP (Paediatrics) Australia
Child Specialist & Pediatric Surgeon
Medical College for Women & Hospital (MCWH)
Share via:
