শিশুর খিচুনী: কারণ, করণীয় ও সতর্কতা

seizure
খিচুনী কি?

খিচুনী (Seizure) হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে মস্তিষ্কের কোষে (নিউরন) বৈদ্যুতিক কার্যকলাপে হঠাৎ অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। এর ফলে শরীর কাঁপা, হাত-পা মোচড়ানো, চোখ উল্টে যাওয়া বা কিছু সময়ের জন্য অচেতন হয়ে থাকা দেখা যেতে পারে। অনেক সময় শিশুর খিচুনী খুব হালকা হয়— যেমন একদিকে তাকিয়ে থাকা বা কিছুক্ষণ কথা না বলা— এগুলিও খিচুনীর লক্ষণ হতে পারে।


খিচুনীর সাধারণ কারণসমূহঃ
জন্ম ও গর্ভকালীন কারণ
  • জন্মের পর দেরিতে কান্না করা বা শ্বাস নিতে দেরি হওয়া

  • গর্ভকালীন জটিলতা (যেমন কম ওজন বা অক্সিজেনের অভাব)

  • ডেলিভারির সময় মাথায় আঘাত পাওয়া বা আটকে যাওয়া (Obstructed labour)

  • গর্ভে বা জন্মের পর ব্রেনের বিকাশজনিত সমস্যা

বিপাকীয় ও রাসায়নিক কারণ
  • রক্তে ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম কমে যাওয়া

  • রক্তে লবণ (সোডিয়াম) কমে যাওয়া

  • রক্তে সুগার কমে যাওয়া

  • বিলিরুবিন বেশি বেড়ে যাওয়া (জন্ডিসজনিত খিচুনী)

  • হরমোন বা লিভারজনিত সমস্যা

সংক্রমণ ও অন্যান্য কারণ
  • জ্বরজনিত খিচুনী (Febrile Convulsion)

  • মস্তিষ্কে সংক্রমণ (Encephalitis / Meningitis)

  • রক্তে ইনফেকশন (Sepsis)

  • মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, পানি জমা বা টিউমার

  • অজানা বা জিনগত কারণ

জ্বরজনিত খিচুনী (Febrile Convulsion)

এটি শিশুদের খিচুনীর সবচেয়ে কমন ও তুলনামূলকভাবে নিরীহ কারণ।
সাধারণত যখন শরীরের তাপমাত্রা ১০২°F বা তার বেশি হয়, তখন এই খিচুনী দেখা দিতে পারে।

বৈশিষ্ট্য:

  • জ্বর থাকলে ঘটে

  • একদিনে একবার হয়

  • সাধারণত ১০–১৫ মিনিটের মধ্যে থেমে যায়

  • ইইজি পরীক্ষায় সাধারণত স্বাভাবিক ফলাফল পাওয়া যায়

যে শিশুর একবার জ্বরজনিত খিচুনী হয়, তার আবার ৫–৬ বছর বয়স পর্যন্ত পুনরায় হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

 

খিচুনী হলে করণীয়

জরুরি করণীয়
  • শিশুকে সমতল ও নিরাপদ জায়গায় শুইয়ে দিন

  • মুখে কিছু দেওয়া যাবে না (ওষুধ, পানি বা খাবার নয়)

  • শিশুকে জোর করে ধরা বা নাড়ানো যাবে না

  • খিচুনী বন্ধ হওয়ার পর শিশুকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান

  • খিচুনী ৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নিতে হবে

  • চিকিৎসকের পরামর্শে ইজিয়াম সাপজিটরি প্রয়োগ করা যেতে পারে

    করণীয় (Do’s)বারণীয় (Don’ts)
    সমতল জায়গায় শুইয়ে দিনমুখে কিছু ঢোকাবেন না
    পাশে কাত করে রাখুনজোর করে ধরা বা ঝাঁকাবেন না
    সময় গণনা করুনঠান্ডা পানি ঢালবেন না
    খিচুনী শেষে ডাক্তারের পরামর্শ নিনঅপ্রয়োজনীয় ওষুধ দেবেন না
জ্বর কমানোর উপায়
  • নাপা সাপজিটরি (ডোজ অনুযায়ী) ব্যবহার করুন

  • কুসুম গরম পানি দিয়ে গা মুছিয়ে দিন

  • জ্বর যেন ১০২°F-এর বেশি না হয় তা নিশ্চিত করুন

ভবিষ্যতে প্রতিরোধের উপায়
  • জ্বর হলেই তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করুন

  • চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনে ডায়াজিপাম (সেডিল) ২-৩ ব্যবহার করা যায়

  • পর্যাপ্ত পানি ও সুষম খাবার দিন

  • শিশুর খিচুনীর ইতিহাস থাকলে সবসময় ইজিয়াম সাপজিটরি বাসায় রাখুন

  • নিয়মিত পেডিয়াট্রিশিয়ান ফলোআপ ও EEG/Brain Imaging প্রয়োজন হলে করান

কখন হাসপাতালে যাবেন
  • খিচুনী ৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে

  • শিশুর চেতনা ফিরতে দেরি হলে

  • প্রথমবার খিচুনী হলে

  • শরীরে প্রচণ্ড জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা বমি থাকলে

  • খিচুনীর সাথে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে


    সাধারন ও জটিল খিচুনী সহজে আলাদা করবেন যেভাবেঃ

বিষয়সাধারণ Febrile খিচুনীজটিল বা বিপজ্জনক খিচুনী
সময়কাল<১৫ মিনিট>১৫ মিনিট
পুনরাবৃত্তিএকদিনে একবারএকদিনে একাধিকবার
বয়স৬ মাস–৫ বছরযে কোনো বয়স
ইইজি ফলাফলস্বাভাবিকঅস্বাভাবিক হতে পারে

 


⚠️ সতর্কতা (Disclaimer):
  • আর্টিকেলটি শিক্ষামূলক ও সচেতনতামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
  • সঠিক মূল্যায়ন ও চিকিৎসার জন্য  চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।


© 
Dr-Adnan Al Berunie

MBBS, MS (Pediatric Surgery)

SCHP (Paediatrics) Australia, CCD

Child Specialist & Pediatric Surgeon

চেম্বার ১:
আল-মারকাজুল ইসলামী হাসপাতাল
২১/১৭, বাবর রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
🕔 রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতি — বিকেল ৬:০০–৮:০০
📞 সিরিয়ালের জন্য: 01755515556

চেম্বার ২:
ইউনিএইড ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন
2-A/1, দারুস সালাম রোড, মিরপুর-১।
🕢 শনি, সোম ও বুধ — সন্ধ্যা ৭:৩০–৯:৩০
📞 সিরিয়ালের জন্য: 01333702755

অনলাইন কনসালটেশন: 01671652589 (Whatsapp)

2 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
error: Content is protected !!
Share via
Copy link