শিশুদের অটিজম (ASD) ও হাইপার-একটিভিটি (ADHD)
অটিজম কি?
অটিজম হলো একটি শিশুর বিকাশজনিত সমস্যা, যেখানে মূলত কথা বলা, যোগাযোগ এবং সামাজিক আচরণ সমস্যা দেখা দেয়। এটি প্রধানত জীনগত কারণে হয়। অটিজমের জন্য পরিবেশ বা বাচ্চা বড় হওয়া বিশেষ ভূমিকা রাখে না। বিশ্বব্যাপী, প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে ১ জন অটিজমের সঙ্গে জন্মায়।
অটিজমের লক্ষণ
ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে-
নাম ধরে ডাকলে তাকায় না।
২ মাসের বাচ্চা, মা তাকিয়ে হাসলে রেসপন্ড করেনা। চোখের দিকে তাকাতে চায়না।
এমন মনেহয় যেন বাচ্চা কানে শুনে না।
৯ মাস বয়স কিন্তু কোন শব্দ করে না।
১২ মাস বয়স কিন্তু ইশারা বা হাত নাড়ে না।
১৬ মাস বয়স কিন্তু কোন কথা বলে না।
আগে কিছু কথা বলতো কিন্তু এখন বলে না।
২ বছর বয়স কিন্তু নিজে থেকে ২ শব্দ একসাথে বলে না।
২ বছর বয়স, নিজের দুনিয়া নিয়ে ব্যাস্ত থাকে। অন্যদের দিকে খেয়াল নাই। অন্য বাচ্চাদের দিকেও আগ্রহ পায়না।
রিপিটেটিভ মুভমেন্ট। একই কাজ বার বার করতে থাকে। যেমন হাতের কোন মুভমেন্ট বা পায়ের কোন মুভমেন্ট সব সময় করতে থাকা।
বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে-
কথাপোকথন এ ইন্টারেস্ট পায় না।
কথাপোকথন চালিয়ে নিতে চায়না।
কথা ঠিক ভাবে বুঝতে সমস্যা হয়।
অদ্ভুত শব্দ ও ভাষায় কথা বলা।
নিজেকে নিয়ে বা নিজের কোন কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
অন্যদের দিকে আগ্রহ কম পায়। যদিও কিছু আগ্রহ পায় তবু সম্পর্ক চালিয়ে নিতে পারে না।
ভিন্ন পরিবেশে ও পরিস্থিতিতে তার আচরণ ভিন্ন হওয়া উচিত সেটা বুঝতে পারে না। যেমন মা এবং টিচার এর সাথে একই আচরণ হবে না সেটা বুঝতে পারেনা।
একটা কথাপোকথন শুরু করলে নিজের মত কথা বলতে থাকে। অন্যের দিকে খেয়াল থাকে না। কথা বলার সময় অন্য দিকে তাকিয়ে থাকে।
সামাজিক ভাবে এবং নতুন পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে পারে না।
অন্যদের মানসিক অবস্থা বা ফিলিংস বুঝতে পারে না। অন্যের কষ্ট কম বুঝতে পারে বিধায় সহানুভূতিশীল হয়না।
শাররীক অবস্থান, ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন এবং অনুভূতির প্রকাশ ভঙ্গি স্বাভাবিক থাকেনা।
পূর্ব নির্ধারিত রুটিনে আটকে থাকে। সামান্য পরিবর্তনে বিরক্ত হয়।
নির্দিষ্ট নিয়মে গোড়ামী। যেমন তার দুইটা বইই লাগবে পড়ার সময়। লাইট একটাই জ্বলবে, ইত্যাদি।
নির্দিষ্ট বিষয়ে আগ্রহ আটকে থাকা। কোন নির্দিষ্ট কিছু নিয়ে আগ্রহ হলে সেটা নিয়ে বাড়াবাড়ি এবং সেটাই নির্দিষ্ট ভাবে চলতে থাকা।
খেলার সময় একই রকম খেলনা একসাথে সাজানো। যেমন তার যত গাড়ি আছে সব গাড়ি নিয়ে এসে একসাথে এক লাইনে সাজানো।
রিপিটেটিভ মুভমেন্ট। একই ধরনের কাজ বা কথা বার বার করতে ও বলতে থাকা। যেমনঃ আঙুলে ভর দিয়ে হাটা, হাতের কোন মুভমেন্ট, কোন মুভি বা কার্টুনের ডায়ালগ স্বাভাবিকের বাইরে সারাদিন বলতে থাকা।
অটিজম ডায়াগনসিস এর চুড়ান্ত লক্ষন গুলোঃ
১২ মাস বয়সে কোন শব্দ না করা, ইশারা বা হাত না নাড়া।
একা থাকতে পছন্দ করা। কোন বস্তু বা খেলনা নিয়ে তার পছন্দ অন্যদের সাথে শেয়ার না করা।
১৬ মাস বয়সে এক শব্দও না বলা।
২ বছর বয়সে ২ শব্দ একসাথে বলতে না পারা।
আগের কথা বা স্কিল যে কোন বয়সে হারিয়ে ফেলা।
অটিজমের সাথে কমনলি পাওয়া যায়ঃ
ডেভেলপমেন্টাল ডিলে
এংজাইটি ডিসঅর্ডার / দুশ্চিন্তা
ADHD (এটেনশন ডেফেসিট হাইপার এক্টিভিটি)
টিক ডিসঅর্ডার
খিচুনী
ল্যাংজুয়েজ ডিলে (কথা বলার সমস্যা)
লারনিং প্রবলেম (শিখতে সমস্যা)
লক্ষ্য রাখবেন, অটিজমের লেভেল ১ থেকে ৫ পর্যন্ত হতে পারে। সমস্যা কম বা বেশি হতে পারে এবং স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের উপর প্রভাব ফেলে। মাত্র ১০% অটিস্টিক শিশু স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে সক্ষম।
চিকিৎসা ও সহায়তা
অটিজম পুরোপুরি ভালো করার মতো চিকিৎসা নেই। তবে শিশুর বিকাশ ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া যায়:
স্পিচ থেরাপি (Speech Therapy)
অকুপেশনাল থেরাপি (Occupational Therapy)
স্পেশাল শিক্ষাগত ব্যবস্থা (Special Education)
আচরণগত পরিবর্তন ও থেরাপি (Behavioral Therapy)
গুরুত্বপূর্ণ: যত দ্রুত অটিজম শনাক্ত হয়, শিশুর বিকাশে তত ভালো প্রভাব পড়ে।
করণীয়
লক্ষ্যিত লক্ষণ দেখা দিলে শিশু বিশেষজ্ঞ বা পেডিয়াট্রিশিয়ানের পরামর্শ নিন।
শিশুদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও বিকাশের মান নিরীক্ষণ করুন।
থেরাপি ও শিক্ষাগত ব্যবস্থা শুরু করুন।
শিশুর আগ্রহ, ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা অনুযায়ী পরিবেশ তৈরি করুন।
ADHD সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলচনা
ADHD হলো একটি নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার, যেখানে শিশুর মনোযোগ ধরে রাখা, আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং উদ্দীপনা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়। এটি অটিজমের সঙ্গে কখনো কখনো একসাথে দেখা যায়। অনেক বাবা-মা বিভ্রান্ত হন, কারণ ADHD-এর কিছু লক্ষণ অটিজমের মতোই মনে হতে পারে।
ADHD এর লক্ষণ
১. মনোযোগ সংক্রান্ত সমস্যা (Inattention)
সহজে মনোযোগ হারানো
স্কুল বা ঘরে কাজ সম্পন্ন করতে কষ্ট
বিস্তারিত কাজ ভুল করা বা অমনোযোগী থাকা
দীর্ঘসময় কোন কাজের প্রতি আগ্রহ ধরে রাখতে না পারা
২. অতিরিক্ত উদ্দীপনা (Hyperactivity)
স্থিরভাবে বসতে পারা না
খুব দ্রুত বা বারবার চলাফেরা করা
ঘরে বা ক্লাসে খুব বেশি কথা বলা
শান্তভাবে খেলায় বা কাজ করার সময় সমস্যা
৩. ইমপালসিভ আচরণ (Impulsivity)
অন্যের কথা কেটে নিজে বলা
নিজের ইচ্ছা মতো আচরণ করা
নিয়ম মানতে কষ্ট
ADHD চিকিৎসা ও সহায়তা
ADHD পুরোপুরি “ঠেকানো” যায় না, তবে এর নিয়ন্ত্রণ ও থেরাপি সম্ভব। চিকিৎসা ও সহায়তা শিশুর শিক্ষা, সামাজিক জীবন ও দৈনন্দিন কাজের মান উন্নত করতে সাহায্য করে।
১. আচরণগত থেরাপি (Behavioral Therapy)
শিশুদের মনোযোগ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ শেখানো
ধাপে ধাপে দায়িত্ব ও নিয়ম মানার অভ্যাস তৈরি করা
২. শিক্ষা ও স্কুল ব্যবস্থাপনা
শিক্ষকের সাহায্যে মনোযোগ ধরে রাখার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা
কাজ ভাগ করে ছোট ছোট ধাপে শেখানো
৩. ওষুধ (Medication)
প্রয়োজন হলে শিশু বিশেষজ্ঞ ADHD-এর জন্য সেফ ও অনুমোদিত ওষুধ দিতে পারেন
এটি মনোযোগ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে
৪. পিতামাতা ও পরিবেশগত সহায়তা
নিয়মিত রুটিন ও নির্দিষ্ট সময়সূচি
ধৈর্য ধরে প্রশিক্ষণ ও প্রশংসা
চাপ বা অতিরিক্ত দায়িত্ব না দেওয়া
ADHD এবং অটিজমের সম্পর্ক
কিছু শিশু অটিজমের সঙ্গে ADHD নিয়ে জন্মায়।
অটিজম থাকলে মনোযোগে সমস্যা, সামাজিক ইন্টারঅ্যাকশন ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ আরও জটিল হয়ে যায়।
দু’টি অবস্থাই থেরাপি ও বিশেষ শিক্ষার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণযোগ্য, তবে দ্রুত শনাক্তকরণ শিশুর বিকাশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
সতর্কতা (Disclaimer):
- আর্টিকেলটি শিক্ষামূলক ও সচেতনতামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
- সঠিক মূল্যায়ন ও চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
© Dr-Adnan Al Berunie
MBBS, MS (Pediatric Surgery)
SCHP (Paediatrics) Australia, CCD
Child Specialist & Pediatric Surgeon
চেম্বার ১:
আল-মারকাজুল ইসলামী হাসপাতাল
২১/১৭, বাবর রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতি — বিকেল ৬:০০–৮:০০
সিরিয়ালের জন্য: 01755515556
চেম্বার ২:
ইউনিএইড ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন
2-A/1, দারুস সালাম রোড, মিরপুর-১। শনি, সোম ও বুধ — সন্ধ্যা ৭:৩০–৯:৩০
সিরিয়ালের জন্য: 01333702755
অনলাইন কনসালটেশন: 01671652589 (Whatsapp)
Share via:
