ইনফেন্টাইল কোলিক

infantile colic

রাতে হঠাৎ বাচ্চা চিৎকার করে কান্না শুরু করে, মা-বাবা হিমশিম খায় — না খিদে, না জ্বর, না ডায়াপার ভেজা — কিছুতেই শান্ত হয় না। এই দৃশ্য অনেক মায়ের কাছেই দুঃস্বপ্নের মতো। এই লক্ষণগুলো থাকলে আপনার শিশুর ইনফেন্টাইল কোলিক (Infantile Colic) থাকতে পারে।

ইনফ্যানটাইল কোলিক কী?

এটি এক ধরনের অবস্থা যেখানে বাচ্চা একটানা অনেকক্ষণ কান্না করে, বিশেষ করে সন্ধায় বা রাতে।
সাধারণত এটি ৩–৪ সপ্তাহ বয়সে শুরু হয় এবং ৬ মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে কমে যায় বা একেবারে চলে যায়।


কেন হয় এই সমস্যা?

ইনফ্যানটাইল কোলিকের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো পেটে অতিরিক্ত গ্যাস জমা হওয়া।
এর পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারেঃ

  • ফিডার বা বুকের দুধ খাওয়ার সময় দুধের সঙ্গে বাতাস ঢোকা
  • বুকের দুধের ল্যাকটোজের ভারসাম্য না থাকা (ফোরমিল্ক বেশি পাওয়া)
  • ফর্মুলা মিল্কের প্রতি ইনটলারেন্স বা এলার্জি
  • মায়ের গরুর দুধ খাওয়ার কারণে শিশুর ল্যাকটোজ সংবেদনশীলতা
  • হজম সমস্যা, রিফ্লাক্স বা কোষ্ঠকাঠিন্যতা
একই উপসর্গে অন্য রোগও হতে পারে

সবসময় কোলিকই নয়—এমন কান্না বা পেট মোচড়ানোর পেছনে থাকতে পারে অন্য সমস্যা, যেমনঃ

  • প্রস্রাবে ইনফেকশন
  • পায়খানায় ইনফেকশন
  • পেটে ইনফেকশন
  • কানের ইনফেকশন
  • কোষ্ঠকাঠিন্যতা
  • গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স
  • ফিশার বা হার্নিয়া
বাচ্চার কোলিক প্রতিকারে করণীয়

১. ব্রেস্ট ফিডিংয়ের সঠিক পজিশন ও এটাচমেন্ট
  • বাচ্চাকে শুইয়ে নয়, কোলে বসিয়ে দুধ খাওয়াবেন।
  • পিঠ সোজা রেখে মা–শিশু মুখোমুখি থাকবে।
  • শিশুর নাক থাকবে নিপলের বরাবর, এবং মুখ বড় করে হা করে দুধ ধরবে।
  • এরিওলার (নিপলের চারপাশের কালো অংশ) বেশি অংশ শিশুর মুখে ঢুকবে।
    এভাবে খাওয়ালে শিশুর পেটে বাতাস ঢোকার সম্ভাবনা কমে।
  • বিস্তারিত এটাসমেন্ট ও পজিশনিং আর্টিকেলে দেয়া আছে।
২. ফোরমিল্ক ওভারলোড পরিহার

এক স্তন থেকে অন্তত ১৫–২০ মিনিট খাওয়ান, যেন শিশুটি দুধের চর্বি-সমৃদ্ধ অংশ (হাইন্ডমিল্ক) পায়।
এক সেশনে এক স্তন শেষ করে পরের বারে অন্য স্তন দিন। এতে হজম ভালো হয়, গ্যাস কমে। বিস্তারিত ফোরমিল্ক ওভারলোড আর্টিকেলে দেয়া আছে। 

৩. মা গরুর দুধ পরিহার করবেন

মায়ের গরুর দুধ খাওয়া শিশুর ল্যাকটোজ এলার্জি বাড়াতে পারে।
তাই এই সমস্যা থাকলে গরুর দুধ, দই, পনির ইত্যাদি কিছুদিনের জন্য এড়িয়ে চলুন।

৪. ফর্মুলা দুধের বিকল্প ভাবুন

যদি ফর্মুলা দিতেই হয়, তাহলে ল্যাকটোজ-ফ্রি ফর্মুলা ব্যবহার করতে পারেন (ডাক্তারের পরামর্শে)।
কারণ বেশিরভাগ ফর্মুলাই গরুর দুধ থেকে তৈরি।

৫. প্রতিবার খাওয়ানোর পর বার্পিং করান
  • বাচ্চাকে কাঁধে নিয়ে পিঠে হালকা চাপ দিন।
  • বা বাম পায়ের ওপর বসিয়ে বাম হাত দিয়ে পিঠে আলতো চাপর দিন।
  • কখনও ১৫–২০ মিনিটও সময় লাগতে পারে—ধৈর্য ধরুন।
৬. টামি টাইম দিন

বাচ্চাকে পেটের উপর উপুড় করে কিছুক্ষণ শুইয়ে রাখলে পেটের গ্যাস বের হয় ও মাংসপেশি শক্ত হয়।
প্রথমে ১ মিনিট করে শুরু করুন, ধীরে ধীরে সময় বাড়ান (১০ মিনিট পর্যন্ত, দিনে ৪–৬ বার)। টামি টাইম বিষয়ে বিস্তারিত এখানে পাবেন। 

৭. পেটের ম্যাসাজ করুন

হালকা গরম তেল বা বেবি লোশন ব্যবহার করুন।
ম্যাসাজের তিনটি ধাপঃ

  1. উপরে থেকে নিচে আলতো ম্যাসাজ
  2. দুই পা ভাঁজ করে পেটে চাপ দিয়ে সাইকেল চালানোর মতো মুভমেন্ট
  3. “I Love You” ম্যাসাজ প্যাটার্ন অনুসরণ

ম্যাসাজের সময় শিশুর সঙ্গে গল্প করুন—শিশু রিল্যাক্স করবে। 
পেটের ম্যাসাজের কিছু ভিডিও লিংক দেয়া হলোঃ ভিডিও লিংক-১, ভিডিও লিংক-২, ভিডিও লিংক-৩

৮. সন্ধ্যার পর বাচ্চাকে জাগিয়ে রাখুন

সন্ধ্যার পর কিছু সময় খেলাধুলা, টামি টাইম বা ম্যাসাজ করান।
এভাবে রাতে ঘুম গভীর হয়।

৯. সঠিক ঘুমের অভ্যাস তৈরি করুন
  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর রুটিন তৈরি করুন।
  • ঘুমের আগে খাওয়ানো শেষ করুন।
  • রুমে অল্প আলো রাখুন, শব্দ বন্ধ রাখুন।
  • ঘুমপাড়ানি গান বা গল্প শিশুকে শান্ত করে।
  • ঘুম বিষয়ে বিস্তারিত
চিকিৎসা ও সতর্কতা

সব নিয়ম মেনে চলার পরও যদি বাচ্চা শান্ত না হয়, তবে কিছু ঔষধ প্রয়োজন হতে পারে। যেমনঃ পেট ব্যাথা, ঘুমের ঔষধ। তবে নিজে থেকে ওষুধ দেবেন না। গ্যাস বা ঘুমের ওষুধের ভুল ডোজ শিশুর মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ শিশু বিশেষজ্ঞ দেখাবেন। তাহলে ডাক্তার বাচ্চার সমস্যার কারণ বের করে চিকিৎসা করবেন। 

 


⚠️ সতর্কতা (Disclaimer):
  • আর্টিকেলটি শিক্ষামূলক ও সচেতনতামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
  • সঠিক মূল্যায়ন ও চিকিৎসার জন্য  চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

© Dr-Adnan Al Berunie

MBBS, MS (Pediatric Surgery)

SCHP (Paediatrics) Australia, CCD

Child Specialist & Pediatric Surgeon

চেম্বার ১:
আল-মারকাজুল ইসলামী হাসপাতাল
২১/১৭, বাবর রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
🕔 রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতি — বিকেল ৬:০০–৮:০০
📞 সিরিয়ালের জন্য: 01755515556

চেম্বার ২:
ইউনিএইড ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন
2-A/1, দারুস সালাম রোড, মিরপুর-১।
🕢 শনি, সোম ও বুধ — সন্ধ্যা ৭:৩০–৯:৩০
📞 সিরিয়ালের জন্য: 01333702755

অনলাইন কনসালটেশন: 01671652589 (Whatsapp)

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
error: Content is protected !!
Share via
Copy link