হ্যান্ড, ফুট মাউথ ডিজিজ (HFMD)

hfmd
HFMD কী?

হ্যান্ড, ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ (HFMD) একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত ছোট শিশুদের হয়ে থাকে।
এটি সাধারণত Coxsackievirus A16 (Cox A16)Enterovirus 71 (EV71) দ্বারা হয়ে থাকে।
রোগটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে, এবং দ্রুত এক শিশু থেকে আরেক শিশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কিভাবে ছড়ায়?

এই ভাইরাস বিভিন্ন উপায়ে ছড়াতে পারে —

  • আক্রান্ত শিশুর সর্দি, কাশি, হাঁচি বা কফের মাধ্যমে

  • লালা বা মুখের ফোসকার তরল থেকে

  • পায়খানার মাধ্যমে

  • আক্রান্ত শিশুকে ধরার পর হাত না ধোয়া অবস্থায় অন্য বাচ্চাকে ছোঁয়ার মাধ্যমে

লক্ষণ সমূহঃ

HFMD সাধারণত ধাপে ধাপে প্রকাশ পায় —

  1. প্রাথমিক লক্ষণ (১–২ দিন)

    • হালকা থেকে মাঝারি জ্বর (১০০–১০২°F)

    • ক্লান্তি বা দুর্বলতা

    • গলা ব্যথা, খাওয়ার অনীহা

  2. পরবর্তী লক্ষণ (২–৪ দিন)

    • মুখের ভেতর ব্লিস্টার বা ছোট ফোসকা (৯০% ক্ষেত্রে দেখা যায়)

    • হাত, পা ও ডায়াপার এরিয়ায় ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ

    • কখনও ডায়ারিয়া, পেট ব্যথা বা চোখে পানি পড়া

  3. অতিরিক্ত লক্ষণ (কিছু ক্ষেত্রে)

    • মাথা ব্যথা

    • মুখের ব্যথার কারণে খাওয়া বন্ধ করা

    • পানিশূন্যতা

⚠️ অনেক সময় এই রোগকে “পক্স” বা “খোস-পাচড়া” বলে ভুল করা হয়।

 মুখের ভেতর ব্লিস্টার হলে বাচ্চা খাওয়া বন্ধ করে দেয়, গলা ব্যাথা থাকে এবং এর ফলে বাচ্চা আরো দূর্বল হয়ে যেতে পারে এবং পানিশূন্যতা হতে পারে। এই রোগটি মূলত ১০ বছরের নিচের বাচ্চাদের হয়ে থাকে, তবে এর থেকে বড় বাচ্চাদের হবে না তেমন নয়।  এই সংক্রমণ কাটিয়ে পুরোপুরি সুস্থ হতে শিশুদের সাধারণত ৭-১০ দিন সময় লাগে ৷ 

চিকিৎসা ও যত্নঃ 

HFMD সাধারণত সেলফ-লিমিটিং রোগ — অর্থাৎ ৫–৭ দিনের মধ্যে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। তবে এই সময় সঠিক যত্ন ও প্রাথমিক চিকিৎসা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ঘরে করণীয়:
  • শিশুকে ঠান্ডা বা নরম খাবার দিন (গরম খাবার এড়িয়ে চলুন)

  • পানি ও তরল খাবার বেশি দিন (পানিশূন্যতা প্রতিরোধে)

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিন

  • মুখে ব্যথা থাকলে পেইন রিলিভার (যেমন প্যারাসিটামল) ব্যবহার করা যেতে পারে

  • গলায় বা মুখে অস্বস্তি কমাতে ঠান্ডা পানীয় বা বরফের পানি সাহায্য করতে পারে

প্রাথমিক চিকিৎসা:
  • এন্টিভাইরাল ক্রিম: Virux HC – দিনে ৪ বার

  • ক্যালামাইন লোশন: দিনে ৩ বার (ViruxHC লাগানোর ১–২ ঘণ্টা পরে)

  • এন্টিহিস্টামিন: চুলকানি কমাতে প্রয়োজনে (চিকিৎসকের পরামর্শে)

  • যদি ফোসকা ভেঙে গিয়ে ইনফেকশন হয়, তখন এন্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হতে পারেঅবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করবেন।

সাধারণত ছোট বাচ্চাদের এই রোগের প্রকটতা বেশি হয় এবং চিকিৎসা নির্ভর করে এর প্রকটতার উপড়। সমস্যা বেশি হলে ডাক্তার দেখিয়ে দ্রুত পূর্ণ চিকিৎসা নিলে সংক্রমণের হার কম থাকে এবং বাচ্চা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠে। প্রকটতা একদম কম হলে এজন্য এখানে উল্লেখিত প্রাথমিক চিকিৎসাই যথেষ্ট হতে পারে। মুখের ভেতর ব্লিস্টার গুলো যন্ত্রনা দায়ক হয় বিধায় বাচ্চা খাওয়া কমিয়ে দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বাচ্চা একদম খাওয়া বন্ধ করে দিলে পানিশূন্যতা হতে পারে। বাচ্চাকে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার দিয়ে পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। বাচ্চাকে গরম খাবার না দিয়ে খাবার ঠান্ডা বা নরমাল করে দিবেন। তাহলে বাচ্চার সেটা খেতে আরাম হবে। খাবার খাওয়ানোর সাথে সাথে বাচ্চার পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করবেন। গলায় বা মুখের ভেতর ব্যাথা থাকে বিধায় ব্যাথার ঔষধ প্রয়োজন হতে পারে। (প্রাথমিক চিকিৎসা  আর্টিকেল দেখুন)। এটা একটা ভাইরাল রোগ বিধায় প্রাথমিক অবস্থায় এখানে এন্টিবায়েটিকের ভূমিকা নাই। 

সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয়
  • আক্রান্ত শিশুকে অন্য বাচ্চাদের থেকে দূরে রাখুন

  • শিশুকে ধরার পর সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন

  • শিশুর ব্যবহৃত টিস্যু, কাপড় বা চামচ আলাদা রাখুন

  • ফোসকা শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত শিশুকে বাইরে না নেওয়া ভালো

লক্ষণীয়ঃ 

⚠️ সতর্কতা (Disclaimer):
  • এই আর্টিকেলে উল্লেখিত ঔষধ শুধুমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য। 
  • আর্টিকেলটি শিক্ষামূলক ও সচেতনতামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
  • এখানে উল্লেখ্য ডোজ সমূহ সাধারণ নির্দেশিকা, যা বাচ্চার অবস্থা ভেদে পরিবর্তন হতে পারে। 
  • সঠিক মূল্যায়ন ও চিকিৎসার জন্য  চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

© Dr-Adnan Al Berunie
MBBS, MS (Pediatric Surgery)
SCHP (Paediatrics) Australia
Child Specialist & Pediatric Surgeon
Medical College for Women & Hospital (MCWH)
5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
error: Content is protected !!
Share via
Copy link